শুক্রবার , ২৮ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার , ২৮ আগস্ট ২০২৬
হোমসারা দেশরংপুর-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা, মনোনয়ন তালিকায় ৯ প্রার্থী

রংপুর-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা, মনোনয়ন তালিকায় ৯ প্রার্থী

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
রংপুর-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা, মনোনয়ন তালিকায় ৯ প্রার্থী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিস্তা নদীবেষ্টিত রংপুর-১ আসন (গঙ্গাচড়া ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ১-৯ নম্বর ওয়ার্ড) নিয়ে নির্বাচনী মাঠে ক্রমেই জমে উঠছে প্রচারণা। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।


এর আগে ১ জানুয়ারি রংপুর জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান তার হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব উল্লেখের কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। এরপর তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন এবং শেষ পর্যন্ত তার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়।


এই আসনে শুরুতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন একজন প্রার্থী, পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল এটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তিনি স্থানীয় জাতীয় পার্টি নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদির বড় ভাই হওয়ায় তার প্রার্থীতা আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।


রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর পাশাপাশি বৈধ প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন, জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজী, ইসলামী আন্দোলনের এ টি এম গোলাম মোস্তফা, এনসিপির আল মামুন, গণ অধিকার পরিষদের হানিফুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর আহসানুল আরেফিন, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. আনাস এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. মমিনুর রহমান।


একাধিক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে এই আসনে বহুমাত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মূলত জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা বেশি। তবে ইসলামী ও বাম ধারার দলগুলোর প্রার্থীরাও ভোটের ভাগে প্রভাব ফেলতে পারেন।


ভৌগোলিকভাবে তিস্তা নদীবেষ্টিত গঙ্গাচড়া উপজেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত আসনটি সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিনির্ভর এলাকাতে নদী ভাঙন, বন্যা, সেচ ব্যবস্থা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য ও কর্মসংস্থান ইস্যু নির্বাচনী আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে উঠে আসতে পারে।


নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৭। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯২ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৩১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার দুইজন। নারী ভোটারের সংখ্যাগত আধিক্য প্রার্থীদের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও প্রতিনিধিত্বমূলক রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে চান। কেউ কেউ বলছেন, দল নয়—যোগ্য প্রার্থীই তাদের কাছে মুখ্য। আবার অনেকে দলের আদর্শ ও জাতীয় রাজনীতির প্রভাব বিবেচনায় ভোট দেবেন।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রংপুর-১ আসনে এবারের নির্বাচন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, এটি স্থানীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করবে। মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন শুরু হবে জোরালো প্রচারণা, আর সেটিই ভোটের চূড়ান্ত সমীকরণ নির্ধারণ করবে।