বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬
হোমসারা দেশবানারীপাড়ায় প্লাস্টিক কারখানায় অভিযান, বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন ও কাঁচামাল জব্দ

বানারীপাড়ায় প্লাস্টিক কারখানায় অভিযান, বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন ও কাঁচামাল জব্দ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
বানারীপাড়ায় প্লাস্টিক কারখানায় অভিযান, বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন ও কাঁচামাল জব্দ

বরিশালের বানারীপাড়ায় একটি প্লাস্টিক কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন ও পলিথিন তৈরির কাঁচামাল জব্দ করেছে পরিবেশ অধিদফতর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে এ অভিযান পরিচালনা করে।


রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বানারীপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান গলি সড়কসংলগ্ন খালপাড় এলাকায় অবস্থিত মেসার্স জাবের প্লাস্টিক অ্যান্ড প্যাকেজিং কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কারখানা থেকে পলিথিন তৈরির প্রায় তিন হাজার কেজি কাঁচামাল (পিপিই দানা) এবং ৭২০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা নিষিদ্ধ পলিথিনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।


অভিযানে অংশ নেওয়া বানারীপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি এম এ মুনীব জানান, একই স্থানে কাঁচামাল ও প্রস্তুত নিষিদ্ধ পলিথিন পাওয়া যাওয়ায় সেখানে গোপনে পলিথিন উৎপাদনের জোরালো সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে অভিযান চলাকালে কারখানার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।


পরিবেশ অধিদফতর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুজ্জামান বলেন, “নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদনের গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। জব্দকৃত পলিথিন ও কাঁচামাল সংরক্ষণের জন্য পরিবেশ অধিদফতরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।” তিনি জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে কারখানার মালিক মো. জিয়া উদ্দিন দাবি করেন, তাদের কারখানায় কোনো নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন হচ্ছিল না এবং অনুমোদন অনুযায়ী কেবল বৈধ প্লাস্টিক পণ্যই তৈরি করা হচ্ছিল। তবে জব্দকৃত নিষিদ্ধ পলিথিন কারখানায় কীভাবে এলো—সে বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।


পরিবেশকর্মীরা বলছেন, বৈধ প্লাস্টিক কারখানার আড়ালে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদনের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পলিথিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকর বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।