উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়েছে শতাধিক ঘর ও শিক্ষা–ধর্মীয় স্থাপনা
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বসতঘর, আসবাবপত্র, মসজিদ, মক্তবসহ নানা স্থাপনা।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ১৬ নম্বর শফিউল্লাহ কাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ আগুন লাগে।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকের একটি লার্নিং সেন্টার (শিখন কেন্দ্র) থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের বসতঘর ও শেডে ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাতে হঠাৎ আগুন লাগায় ক্যাম্পজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাণ বাঁচাতে শত শত রোহিঙ্গা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আরও ইউনিট যোগ দিলে মোট আটটি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি জানান, লার্নিং সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগুনে অন্তত ৪৪৮টি ঘর, ১০টি স্কুল, ২টি মসজিদ ও একটি মক্তব পুড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
এর আগেও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পের একটি হাসপাতাল আগুনে পুড়ে যায় এবং ২৫ ডিসেম্বর কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
/এএস