বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬
হোমসারা দেশভবঘুরে নারীদের নির্জন স্থানে এনে হত্যা: সিরিয়াল কিলার সম্রাটের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

ভবঘুরে নারীদের নির্জন স্থানে এনে হত্যা: সিরিয়াল কিলার সম্রাটের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ভবঘুরে নারীদের নির্জন স্থানে এনে হত্যা: সিরিয়াল কিলার সম্রাটের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

নিজ পরিচয় গোপন করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও যৌন তাড়না মেটানোর জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে ভবঘুরে নারীদের পরিত্যক্ত ভবনের নির্জন স্থানে নিয়ে যেত সিরিয়াল কিলার সম্রাট—এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আদালতে দেওয়া সম্রাটের সব বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাভারে ছয়জনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ। তার জন্মস্থান ও বাবার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। তিনি ভবঘুরে জীবনযাপন করতেন এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন।


পুলিশ জানায়, সম্রাট দাবি করেছে—সে বিভিন্ন স্থান থেকে ভবঘুরে নারীদের নির্জন স্থানে এনে রাখত। তারা অন্য কারও সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে বা অন্য কেউ তাদের সঙ্গে এমন সম্পর্কে লিপ্ত হলে সে তাদের হত্যা করত। সর্বশেষ ঘটনার তিন–চার দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এনে রাখে। পরে ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের সম্পর্ক হলে প্রথমে যুবককে দোতলায় হত্যা করে এবং পরে তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলে বলে স্বীকার করেছে সে।


পুলিশ জানায়, সোমবার আদালতে জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এরপর তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।


সাভার থানা পুলিশ জানায়, সম্রাট নিজেকে কখনো ‘কিং সম্রাট’, কখনো ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ বলে পরিচয় দিত। তবে সে যে নাম ও ঠিকানা জানিয়েছে, তার সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পেছনে সম্রাট যে কারণ দেখাচ্ছে, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে এবং সব তথ্য গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।


ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) পুলিশের পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম জানান, সম্রাটের দেওয়া ঠিকানা ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, সম্রাট একজন বিকৃত মানসিকতার মানুষ এবং সাইকোপ্যাথ বলে ধারণা করা হচ্ছে।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে সাভারের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে দুটি পোড়া লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে সম্রাটকে লাশ সরাতে দেখা যায়। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তার স্বীকারোক্তি ও পরিচয় সংক্রান্ত সব তথ্য যাচাই করে তদন্ত চলছে।