শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসামূল্যস্ফীতি কমেনি, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

মূল্যস্ফীতি কমেনি, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
মূল্যস্ফীতি কমেনি, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না নামায় চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধ (জানুয়ারি–জুন) জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ধারা অব্যাহত থাকবে। রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নতুন মুদ্রানীতি তুলে ধরেন।


তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা প্রত্যাশিত গতিতে কমছে না। ফলে এই মুহূর্তে নীতি সুদহার কমানোর সুযোগ নেই। নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার বা রেপো রেট ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে একই রয়েছে।


 ঋণ প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রা সরবরাহের লক্ষ্য


নতুন নীতিতে আগামী জুন নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের লক্ষ্যমাত্রা (৮ শতাংশ) থেকে কিছুটা বেশি। তবে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৬.১০ শতাংশ, যেখানে লক্ষ্য ছিল ৭.২০ শতাংশ। ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান জানান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এলে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়বে—এই প্রত্যাশা থেকেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে।


সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৮.৯০ শতাংশে পৌঁছায়, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২০.৫০ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। নতুন মুদ্রানীতিতে এ হার আগামী জুনে ২১.৬০ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।


অন্যদিকে, মুদ্রা সরবরাহ গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল ৯.৬০ শতাংশ, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭.৮০ শতাংশ। আগামী জুনে এটি ১১.৫০ শতাংশে উন্নীত করার প্রাক্কলন করা হয়েছে। গভর্নর জানান, বাজার থেকে প্রায় ৪৩০ কোটি মার্কিন ডলার কেনার ফলে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বাজারে ছাড়তে হয়েছে, যা মুদ্রা সরবরাহ বাড়ার অন্যতম কারণ।


মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ


মুদ্রানীতি বিবৃতিতে বলা হয়, জানুয়ারিতে টানা তৃতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে।


সংকোচনমূলক নীতিতে উদ্বেগ ব্যবসায়ীদের


সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তাদের মতে, দীর্ঘদিন কঠোর মুদ্রানীতি চালু থাকলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি। বরং উচ্চ সুদের হার ও ব্যয়বহুল ঋণের কারণে শিল্প সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।


ডিসিসিআই জানিয়েছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে; গত ডিসেম্বরে এ হার ছিল মাত্র ৬.১ শতাংশ। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমে ২০২৫ অর্থবছরে ২২.৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৩ অর্থবছরে ছিল ২৪.১৮ শতাংশ।