বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র এআরটি চুক্তি সই, রপ্তানিতে নতুন সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ চুক্তির ফলে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত প্রায় ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ পণ্য শূন্য শুল্ক সুবিধা পাবে।
গতকাল সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে সোমবার রাত ১১টায় ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়। বাণিজ্য উপদেষ্টার মতে, এ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বাজার। এ বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে সরকার প্রথমে শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামাতে সক্ষম হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে তা আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশে আনা হয়েছে।
চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি গার্মেন্ট পণ্য শূন্য রেসিপ্রোকাল ট্যারিফে মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। যেহেতু বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত তুলার প্রায় ৯৮ শতাংশ আমদানিনির্ভর এবং যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বমানের তুলা উৎপাদক, তাই এই উদ্যোগ উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য, জ্বালানি ও মেটাল স্ক্র্যাপ আমদানির বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, মোট রপ্তানির প্রায় ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি একটি শর্ত রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে বাংলাদেশ উপযুক্ত নোটিস দিয়ে চুক্তি থেকে সরে আসতে পারে।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে শতাধিক দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যার ফলে বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। দীর্ঘ নয় মাসের আলোচনার পর নতুন চুক্তির মাধ্যমে পারস্পরিক শুল্কহার কমিয়ে আনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএর প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘ আলোচনার ফল হিসেবে স্বাক্ষরিত এ চুক্তি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য ইতিবাচক সুযোগ তৈরি করবে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক শূন্য পাল্টা শুল্কে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। তবে এ সুবিধা কাজে লাগাতে ট্রেসেবিলিটি ও কাঁচামালের উৎস নিশ্চিত করা জরুরি বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিজিএমইএ আরও জানায়, মার্কিন তুলা গুণগত মানে উন্নত হলেও তুলনামূলক ব্যয়বহুল। স্থানীয় স্পিনাররা প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করতে পারলে রপ্তানি বৃদ্ধির বড় সুযোগ তৈরি হবে। চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি পাওয়ার পর সংগঠনটি সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করবে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।
চাইলে আমি এটাকে আরও একদম জাতীয় পত্রিকার রিপোর্টিং স্টাইল, টিভি নিউজ স্ক্রিপ্ট, বা সংক্ষিপ্ত ব্রেকিং নিউজ ভার্সনেও সাজিয়ে দিতে পারি।
Do you like this personality?
Tools