শনিবার , ০২ মে ২০২৬
শনিবার , ০২ মে ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসারোজা এলেই বাজারে আগুন: নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে নাভিশ্বাস ভোক্তার

রোজা এলেই বাজারে আগুন: নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে নাভিশ্বাস ভোক্তার

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
রোজা এলেই বাজারে আগুন: নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে নাভিশ্বাস ভোক্তার

সেই পরিচিত বাজার, পরিচিত দোকানদার—তবু রমজান ঘিরে যেন সবকিছুই বদলে গেছে। ইফতার ও সাহরির প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ ক্রেতারা। মূল্যবৃদ্ধির কারণ নিয়ে খুচরা বিক্রেতারা দায় দিচ্ছেন পাইকারদের, আর পাইকাররা আমদানিকারক ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে দোষারোপ করছেন।


কেউ নির্বাচন-পরবর্তী সরবরাহ বিঘ্নকে দায়ী করছেন, কেউ পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা বলছেন। তবে এসব যুক্তির মাঝেই বাড়তি দামের চাপে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, কৃষি মার্কেট, মহাখালী কাঁচাবাজার ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে দেখা গেছে—বাজারভেদে দামে কিছু পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট।


রমজানে ইফতারে চাহিদা বাড়ায় লেবুর দামও বেড়েছে। বর্তমানে সাইজভেদে প্রতি হালি লেবু ৮০ থেকে ১৫০ টাকা, কোথাও ১৬০ টাকাও চাওয়া হচ্ছে। বেগুনের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে। দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে, আর কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে ২৪০ টাকা কেজিতে।


মোহাম্মদপুর টাউন হলের সবজি বিক্রেতা মো. ইব্রাহিম জানান, আড়তে দাম বাড়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।


পেঁয়াজের বাজারেও চাপ রয়েছে। এক সপ্তাহে পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৫৩ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, খুচরায় যার দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা। ছোলার দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায় পৌঁছেছে। ছোট দানার মসুর ডাল ১৬০ টাকা, মোটা দানার ১০০ টাকা এবং মাঝারি দানার মসুর ডাল ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


রমজানে বাড়তি চাহিদার কারণে মুরগি ও মাংসের দামও বেড়েছে। সোনালি মুরগি কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং ব্রয়লার ২০০ থেকে ২১০ টাকা। খাসির মাংস কেজি ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং গরুর মাংস প্রায় ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।


শুল্ক কমানো হলেও খেজুরের বাজারে দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন জাতের খেজুর কেজিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে বরই খেজুর ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, মেডজুল ১,৪০০ থেকে ১,৬০০ টাকা এবং আজওয়া খেজুর ১,১০০ থেকে ১,৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি হলেও বাজার পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে পাইকারি ও খুচরা দামের মধ্যে ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য।


দেশি ফলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। কলা ডজন প্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে, পেয়ারা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে এবং মাঝারি আনারস ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিসে বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি ফলের দাম আগেই বেশি ছিল, রমজান উপলক্ষে আরও বেড়েছে।


ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ান। তাদের মতে, বাজার তদারকি জোরদার না করলে এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।