মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি: দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ পর্যাপ্ত, আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানিয়েছেন, দেশে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
গতকাল শনিবার মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি, মজুদ ও সরবরাহের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন জ্বালানিমন্ত্রী।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তেল আমদানির অবস্থা, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস আমদানির সার্বিক চিত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়। এ সময় জ্বালানি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প দেশ খোঁজার নির্দেশনা দেন তিনি।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা থেকে বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে গিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বাস্তবে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংকট এড়াতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পরিকল্পনাও প্রস্তুত করে রেখেছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, আগামী ৯ মার্চ দেশে আরও দুটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
তিনি দেশবাসীকে গুজব বা আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আতঙ্কিত হয়ে কেউ যেন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ না করেন। এতে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়।
জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ এড়াতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি। জনভোগান্তি কমাতে আজ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে, যারা বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে অভিযান চালাবে।
এদিকে জানা গেছে, গতকাল নিউমার্কেট ও নীলক্ষেত এলাকার তিনটি পেট্রল পাম্প বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে মজুদ করা তেল শেষ হয়ে যায়। শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় নতুন করে তেল সরবরাহ পাওয়া যায়নি।
ঢাকা কলেজের বিপরীতে অবস্থিত মেঘনা মডেল সার্ভিস পেট্রল পাম্পের কর্মচারী মো. রফিক জানান, গত শুক্রবার সকাল থেকেই পাম্প বন্ধ রয়েছে, কারণ সেখানে তেল নেই। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার গাড়ির মালিকরা বেশি পরিমাণে তেল কিনে নিয়েছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, আপাতত জ্বালানি তেলে কোনো সংকট নেই। যে সংকট দেখা দিয়েছে তা মূলত আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনার কারণে। এ ছাড়া শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় তেল সরবরাহ করা হয়নি। এসব কারণেই অনেক পাম্প বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়েও কাজ চলছে।