শনিবার , ১১ এপ্রিল ২০২৬
শনিবার , ১১ এপ্রিল ২০২৬
হোমবিনোদনবহুমাত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় ‘দম’: এক জটিল সময়ের চলচ্চিত্রভাষ্য

বহুমাত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় ‘দম’: এক জটিল সময়ের চলচ্চিত্রভাষ্য

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
বহুমাত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় ‘দম’: এক জটিল সময়ের চলচ্চিত্রভাষ্য

সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতা ও বৈশ্বিক শক্তির প্রভাবকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্র দম নিজেকে একটি বহুমাত্রিক বয়ানের ভেতর দাঁড় করায়। সিনেমাটি একই সঙ্গে কালচারাল ও পলিটিক্যাল রিলিজনের সংঘাত, ক্ষমতার রাজনীতি এবং বৈশ্বিক শক্তির অদৃশ্য প্রভাবকে সামনে নিয়ে আসে।


চলচ্চিত্রটির অন্যতম শক্তি হলো—এটি কোনো পক্ষকে এককভাবে নির্দোষ বা অপরাধী হিসেবে দাঁড় করায় না। বরং দেখায়, কীভাবে বৈশ্বিক রাজনীতির জটিলতায় একজন সাধারণ মানুষও চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে। এমনকি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত একজন তরুণও দেশের নিরাপত্তার যুক্তিতে চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে—এই কঠিন বাস্তবতাকে প্রশ্নের মুখে তোলে ‘দম’।


গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি ছোট্ট গ্রামের সাধারণ এক গর্ভবতী নারীর জীবন, যা হঠাৎ করেই বদলে যায় একটি দূরদেশের সিদ্ধান্তে। এখানে Pentagon–এর একটি সিদ্ধান্ত যেন ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে হাজার মাইল দূরের বাস্তবতায়। সেই ঢেউ আঘাত হানে এমন মানুষের জীবনে, যারা সাধারণত বিশ্বরাজনীতির হিসাব-নিকাশে অনুপস্থিত।


সিনেমাটি ইঙ্গিত দেয়, বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সিদ্ধান্ত শুধু যুদ্ধ বা কূটনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়; তা প্রভাব ফেলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতায়। কখনো আফ্রিকার দুর্ভিক্ষ, কখনো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা—সবকিছুই যেন এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা।


তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, চলচ্চিত্রটি শেষ পর্যন্ত কোনো সরল উত্তর দেয় না। বরং একাধিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় দর্শকের সামনে—বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য আসলে কার হাতে? এবং সংকটের মুহূর্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ নেয় কে?


এই প্রশ্নগুলো অনির্দিষ্ট রেখেই দম শেষ হয়, যা দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে—এটাই হয়তো সিনেমাটির সবচেয়ে বড় সাফল্য।