লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১০, সীমান্তে উত্তেজনা তীব্র
লেবাননে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সর্বশেষ হামলার আগে পৃথক একটি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বৈরুতের সরকার ও স্থানীয় গণমাধ্যম।
শনিবার (২৩ মে) চালানো নতুন হামলাগুলো সিরিয়া সীমান্তের কাছে একটি অঞ্চলকে লক্ষ্য করে করা হয়। এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতের কিছু আগে দক্ষিণ লেবাননের ব্রিতাল এলাকার পার্বত্য নাবি স্রেইজ অঞ্চলে পাঁচটি বিমান হামলা চালানো হয়, যা গত ১৭ এপ্রিল হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ শহর টাইরের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। একটি বিস্ফোরণ শহরের উপকণ্ঠে একটি ভবনে আঘাত হানে এবং পরে শহরের ভেতরেও আরেকটি হামলা হয়।
হামলার আগে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স ও স্থানীয় পুলিশ মাইকিং করে বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় এবং অনেককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরব ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রায়ী সামাজিক মাধ্যমে সতর্কবার্তা জারি করেন। এতে দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ রহাল গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়, কারণ সেখানে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি টাইরের দুইটি এলাকাকেও সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যেগুলোকে হিজবুল্লাহর ঘাঁটির কাছাকাছি বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন উদ্ধারকর্মী এবং একজন শিশু রয়েছে।
দক্ষিণ টাইরের কাছে ডেইর কানুন আল-নাহর গ্রামে হামলায় দুইজন উদ্ধারকর্মী ও একটি সিরীয় মেয়ে নিহত হন বলে জানা গেছে। এসব উদ্ধারকর্মী রিসালা স্কাউটস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা আমাল আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হানাওয়াইয়ে আরেকটি হামলায় আরও চারজন উদ্ধারকর্মী নিহত হন, যারা ইসলামিক হেলথ কমিটির সদস্য ছিলেন—এটি হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ একটি সংস্থা