ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহ, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি
ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও ইতালিসহ পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দেয়। অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশগুলোতে ‘রেড হিট অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।
আবহাওয়াবিদরা জানান, সাহারা মরুভূমি থেকে আসা গরম বাতাসের কারণে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারা বলেন, এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম দীর্ঘ ও ভয়াবহ তাপপ্রবাহে পরিণত হয়।
ফ্রান্সের বোর্দো শহরে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে ২ ও ৪ বছর বয়সী দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া জিরোন্দ অঞ্চলে তিনজন বয়স্ক ব্যক্তি মারা যান। নদী ও হ্রদে সাঁতার কাটতে গিয়ে আরও ১৩ জনের মৃত্যু ঘটে।
পরিস্থিতির কারণে ফ্রান্সে ৮৪৫টি স্কুল পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয় এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০টি স্কুল আংশিকভাবে বন্ধ করা হয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য জাতীয় উৎসব ‘ফেত দে লা মিউজিক’-এ মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হয়।
স্পেনের কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা দেখা দেয়। ইতালির মিলান, রোম ও ভেনিসসহ ১২টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়।
জার্মানিতে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। গরম থেকে স্বস্তি পেতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসেও রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়।
গ্রিসে অতিরিক্ত গরমের কারণে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে বেলজিয়ামে রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে কিছু ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়।
বিজ্ঞানীরা বলেন, ঘন ঘন এমন তাপপ্রবাহ দেখা যাওয়া বৈশ্বিক উষ্ণায়নের একটি স্পষ্ট প্রভাব। আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স জানায়, ১৯৪৭ সালের পর থেকে ফ্রান্সে মোট ৫১টি তাপপ্রবাহ দেখা গিয়েছিল। এর মধ্যে ৩৪টি তাপপ্রবাহ ২০০০ সালের পর ঘটেছিল।