সংস্কৃতি ও সংগীতকে অর্থনীতির অংশ করতে হবে, না হলে হারিয়ে যাবে: অর্থমন্ত্রী
দেশের সমৃদ্ধ সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, পল্লীগীতি, লালনগীতি এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এগুলোকে যথাযথভাবে অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির (বিইএ) আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ তাদের সংস্কৃতি, সংগীত, নাটক ও চলচ্চিত্রকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো এসব খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। এ কারণে বাজেটে সংগীত, সংস্কৃতি, থিয়েটার, চলচ্চিত্রসহ সৃজনশীল শিল্পের উন্নয়নের জন্য বিশেষ তহবিল রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিনোদন শিল্প একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক খাত হলেও দেশে এখনো এটি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বিকশিত হয়নি। এই খাত জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ ও প্ল্যাটফর্মের অভাবে অনেক শিল্পী তাদের পেশায় টিকে থাকতে সংগ্রাম করছেন।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকার আর্থিক খাত, পুঁজিবাজার এবং সরকারি অর্থব্যবস্থায় সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ঋণ পরিশোধে বছরে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হওয়ায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান—এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সরকার এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানযোগ্যতা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা বাস্তবায়নে উচ্চাভিলাষী হলেও প্রয়োজনীয়।
বাস্তবায়নকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও জটিল বিধিব্যবস্থা বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমিয়ে দেয়। তাই প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণের মাধ্যমে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং কৃষক, কামার, কুমার ও তাঁতীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সরকার।