চীন-বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ১৩ সমঝোতা স্মারক সই, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠককে ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তিনি জানিয়েছেন, অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিং সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
ড. মাহদী আমিন বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, মংলা বন্দরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (ইকোনমিক জোন) চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি সম্পদ উন্নয়ন খাতেও বড় পরিসরে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপায় এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের পোশাক খাতে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।
মুখপাত্র আরও বলেন, বাংলাদেশের কাঁঠাল চীনে রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য রফতানি বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে।
চীন বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটির বিভিন্ন কোম্পানি বাংলাদেশে অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা, হাসপাতাল স্থাপন এবং শিক্ষার্থী ও রোগীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
ড. মাহদী আমিন বলেন, চীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব (স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ) আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বৈঠকে ব্রিকস জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উভয় পক্ষই দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।