বৃহস্পতিবার , ০২ জুলাই ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০২ জুলাই ২০২৬
হোমঅর্থনীতি-ব্যবসাচট্টগ্রাম বন্দরে নতুন রেকর্ড, কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি

চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন রেকর্ড, কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন রেকর্ড, কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। একই সঙ্গে বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যে নামিয়ে এনে আবারও ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ফলে জাহাজের অবস্থানকাল কমেছে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে।


বুধবার (১ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বন্দরে মোট ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এছাড়া জাহাজ হ্যান্ডলিং বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৩৬টিতে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি।


আর্থিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে বন্দর। অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং সরকারকে কর হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৯৬০ কোটি ৪ লাখ টাকা। কর পরিশোধের পর নিট উদ্বৃত্ত হয়েছে ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা।


বন্দর পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে কনটেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থানকাল ২ দশমিক ৫৮ দিন থেকে কমে ২ দশমিক ৩৮ দিনে নেমে এসেছে। এতে শিপিং কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত হচ্ছে।


ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে বন্দরের সব গেটে শতভাগ ই-গেট পাস ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ই-ডেলিভারি অর্ডার, অনলাইন এনওসি, ই-চালান, কার্ট টিকিটসহ বিভিন্ন সেবা সম্পূর্ণ কাগজবিহীন করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিস্টেমের সঙ্গে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদানের ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর হয়েছে।


এছাড়া ‘সিপিএ স্কাই’ নামে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে কাস্টমস, ব্যাংক, শিপিং এজেন্ট এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে। তথ্য সুরক্ষায় আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কার্যকর করা হয়েছে।


বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে বহির্নোঙরে কোনো জাহাজকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। এর ফলে জাহাজ দ্রুত পণ্য খালাস ও বোঝাই করতে পারছে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে সময় ও ব্যয়—উভয়ই কমেছে। ঈদের ছুটিতেও ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম সচল রেখে এ সক্ষমতা বজায় রাখা হয়েছে।


নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের আন্তর্জাতিক পরিদর্শনে চট্টগ্রাম বন্দর ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন করেছে। পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত নজরদারিতে বহির্নোঙরে ডাকাতি ও চুরির ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।


দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৪০ সালের মধ্যে কার্গো হ্যান্ডলিং ৩০৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং ৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন টিইইউসে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন কনটেইনার টার্মিনাল, বে টার্মিনাল, হেভি লিফট কার্গো জেটি এবং বহুমুখী পরিবহন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, পরিচালন দক্ষতা, ডিজিটাল সেবা এবং আর্থিক সাফল্যের এই ধারাবাহিক অগ্রগতি চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।

:::