রাউজানে চার দশকের খুন-প্রতিশোধের রক্তাক্ত ধারা
চট্টগ্রামের রাউজানে ফের রক্তাক্ত সংঘাত। যুবদলের কর্মী মানিক আবদুল্লাহ ও মুহাম্মদ ইব্রাহিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে। স্থানীয়রা বলছেন, এসব ঘটনা পুরোনো শত্রুতা ও প্রতিশোধের ধারাবাহিকতায় ঘটেছে।
গত ১৯ এপ্রিল রাতে বাগোয়ান ইউনিয়নের গরিব উল্লাহ পাড়ায় প্রথম হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। মানিক আবদুল্লাহ প্রতিবেশীর বাড়িতে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন, সঙ্গে ছিলেন তাঁর এক সঙ্গী। হঠাৎ ঘরে ঢুকে পড়ে চার-পাঁচজন সশস্ত্র যুবক। মুহূর্তেই মানিককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় তারা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মানিক, তবে তাঁর সঙ্গী পালিয়ে বাঁচেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মানিককে হত্যার পেছনে রয়েছে প্রতিশোধের পরিকল্পনা। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষের এক সন্ত্রাসীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল।
এর মাত্র দুই দিন পর, ২২ এপ্রিল দুপুরে রাউজানের সদর ইউনিয়নের শমসের নগরের গাজীপাড়ায় আবারও খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহিম (৩০) যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী। বাড়ির পাশের এক চায়ের দোকানে বসে থাকাকালে তিনটি অটোরিকশায় আসা ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র হামলাকারী তাঁকে ঘিরে ধরে। মাথার পেছন, কোমর ও ঊরুতে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। হত্যার পর নির্বিঘ্নে এলাকা ত্যাগ করে তারা।
এ দুটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দীর্ঘ চার দশক ধরে রাউজানে চলমান রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত বিরোধের বলি হচ্ছে সাধারণ কর্মীরা—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে আপনি কি আরও তথ্য চান, যেমন—এই সহিংসতার পেছনের ইতিহাস বা রাজনৈতিক পটভূমি?