বৃহস্পতিবার , ১৬ জুলাই ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ১৬ জুলাই ২০২৬
হোমজাতীয়বৈষম্য ও উগ্রবাদের স্থান হবে না, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বৈষম্য ও উগ্রবাদের স্থান হবে না, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

favicon
সাইফুল আলম মিরাজ
বৈষম্য ও উগ্রবাদের স্থান হবে না, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সংসদে সমাপনী বক্তব্যে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরলেন তারেক রহমান


শহীদদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে ধনী-গরিবের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং দেশে উগ্রবাদ ও চরমপন্থার কোনো স্থান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ধরনের অপশক্তি মোকাবিলায় বিরোধী দলের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।


বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের করে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায়। এ লক্ষ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্পদ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রতিবছর পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১০ হাজার নার্সারি গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।


কৃষি খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ পরিশোধে কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এরই মধ্যে ১৩ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।


ডিজিটাল সেবার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি বিভিন্ন সেবা ধীরে ধীরে একটি সমন্বিত **ইউনিভার্সেল কার্ড**-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নাগরিকরা এক কার্ডের মাধ্যমেই বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।


জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করবে।


শিক্ষা খাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নকল সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এজন্য শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং প্রতিবছর জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও জনগণের জন্য কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।