‘আঞ্চলিক সহযোগিতাই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার কার্যকর উপায়’
বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তার মতে, জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর পথ।
দিল্লিতে তিন দিনের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের বৈঠকের আগে যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
ইন্দ্র মনি পান্ডে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে বিভিন্ন অগ্রাধিকার খাতে কাজ করছে বিমসটেক।
তিনি জানান, কয়েক বছর আগে সংস্থার কার্যক্রমে **ব্লু ইকোনোমি** নতুন সহযোগিতা খাত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২২ সালে সদস্য রাষ্ট্রগুলো একটি সমন্বিত পরিবহন সংযোগ মাস্টার প্ল্যান অনুমোদন করে। পরবর্তীতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৬০ শতাংশ প্রকল্পের বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
তার ভাষ্য, এই পরিকল্পনা শুধু সড়ক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামুদ্রিক, বিমান, ডিজিটাল এবং জনগণের পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিমসটেক মহাসচিব আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রেও সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে সংস্থাটি। তিনি উল্লেখ করেন, বিমসটেকভুক্ত সব দেশই জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই অভিযোজনমূলক উদ্যোগের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাও জরুরি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা আরও জোরদার হলে তা শুধু ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনেই নয়, বরং বাংলাদেশসহ বিমসটেকভুক্ত সাতটি দেশের জনগণের সামগ্রিক উন্নয়ন ও কল্যাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।