চাবাহারের নজরদারি টাওয়ার ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানের চাবাহার শহরের শহীদ কালানতারি বন্দরে অবস্থিত একটি সামুদ্রিক নজরদারি টাওয়ারে সফল হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করা হয়েছে। শুক্রবার (স্থানীয় সময়) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করে সংস্থাটি।
সেন্টকম জানায়, বৃহস্পতিবার পরিচালিত এ হামলা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া টাওয়ারটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালিত একটি সামুদ্রিক নজরদারি নেটওয়ার্কের অংশ ছিল, যার মাধ্যমে ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হতো।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, এই নজরদারি ব্যবস্থা ব্যবহার করে আইআরজিসি দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক জাহাজ শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করত। তাদের মতে, হামলার উদ্দেশ্য ছিল আইআরজিসির হামলা সমন্বয়ের সক্ষমতা দুর্বল করা এবং আঞ্চলিক জলসীমায় নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, এ অভিযানের মাধ্যমে বেসামরিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধ কার্যকর রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য। তবে তারা স্পষ্ট করেছে, নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা জাহাজের ক্ষেত্রে এ নিরাপত্তা সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন হামলায় চাবাহার বন্দরের সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, বন্দরের জেটি, পণ্য ওঠানামার সরঞ্জাম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অক্ষত রয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা পরিদর্শন, ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন এবং দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, চাবাহার ছাড়াও বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত হরমোজগান, বুশেহর, সিস্তান ও বেলুচিস্তান, খুজেস্তান এবং লোরেস্তান প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন হামলা হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এসব হামলায় অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন নারী ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্কও রয়েছেন। এছাড়া বহু আহত ব্যক্তি দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হামলায় হরমোজগান প্রদেশের খামির কাউন্টির অন্তত ছয়টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।