তাপদাহ ও বজ্রপাতে ভয়াবহ দাবানল, সংকটে কানাডার বিস্তীর্ণ অঞ্চল
প্রচণ্ড তাপদাহ ও বজ্রপাতের কারণে কানাডাজুড়ে নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো থেকে শুরু করে অন্টারিও পর্যন্ত বিস্তৃত এই পরিস্থিতিকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম কঠিন দাবানল মৌসুম হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রায় ৩৪ হাজার বজ্রপাতের ঘটনায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক দাবানলের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে সেখানে অন্তত ৯০টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে ২৫টি জরুরি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
ভ্যাঙ্কুভারের কাছাকাছি কিম্বার্লি এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা ইনসিডেন্ট কমান্ডার হিউ মারডক বলেন, চরম শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি নিকট ভবিষ্যতে বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
দাবানলের ধোঁয়া ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শহরেও পৌঁছেছে। এর প্রভাবে আলবার্টার ব্যানফ ও আশপাশের এলাকায় বায়ুদূষণের উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করেছে দেশটির পরিবেশ সংস্থা এনভায়রনমেন্ট কানাডা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাপক উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম চালাচ্ছে কানাডা সরকার। বর্তমানে ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি প্রশিক্ষিত দমকলকর্মী এবং প্রায় ৩০০টি ওয়াটার বোম্বার বিমান ও হেলিকপ্টার আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে মেক্সিকো থেকে আরও ২০০ জন দমকলকর্মী কানাডায় যোগ দেবেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি দাবানল মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে, যা গত এক দশকের গড় ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও বেশি। পরিস্থিতির কারণে আদিবাসী সম্প্রদায়সহ হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
যদিও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কুইবেকে আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং আবহাওয়ার সামান্য উন্নতির কারণে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়তে পারে।