উমামা ফাতেমাকে ‘নতুন বাংলাদেশের ভরসার প্রতীক’ বললেন তাসনিম জারা
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ উমামা ফাতেমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন একটি দীর্ঘ পোস্ট প্রকাশ করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি জানান, অভ্যুত্থানের পর উমামা ফাতেমা, নুসরাত ও রাফিয়ার একটি সাক্ষাৎকার তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। তাদের সাহস, স্পষ্টভাষিতা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিণত ভাবনা তাকে রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্তে প্রভাবিত করে।
দেশে ফেরার পর উমামার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তাসনিম জারা লেখেন, সামনাসামনি উমামাকে আরও সহজ-সরল ও নীতিনিষ্ঠ মনে হয়েছে। তার মতে, উমামা যা বিশ্বাস করেন, সেটিই বলেন এবং নিজের আদর্শের সঙ্গে আপস করেন না।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মূল্যবোধ ও নৈতিক অবস্থান অটুট রাখা। এই জায়গায় উমামাকে তিনি এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখেন, যার বিচার-বিবেচনার ওপর আস্থা রাখা যায়। সময়ের সঙ্গে অনেককে বদলে যেতে দেখলেও উমামা নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাসনিম জারার ভাষ্য, গত দুই বছরে উমামা এমন কোনো প্ল্যাটফর্মে থাকেননি, যা তার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হয়েছে। প্রয়োজনে তিনি সেখান থেকে সরে এসেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ডাকসু নির্বাচনে দলীয় সমর্থন ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিয়েছেন। ক্ষমতার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিজের আদর্শকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে কেবল কোনো পদ লাভ করাই সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। বরং একজন ব্যক্তি কীভাবে সেই অবস্থানে পৌঁছেছেন এবং জনগণের জন্য কী করেছেন, সেটিই প্রকৃত মূল্যায়নের বিষয়।
পোস্টের এক পর্যায়ে তাসনিম জারা উমামাকে চীনের হোয়াংহো নদীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যাকে অনেকে ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে দেখেন, সেই নদীর পলিমাটিতেই চীনা সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে। একইভাবে উমামাকেও তিনি সম্ভাবনা ও নতুন পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবলে যাদের মুখ তার কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে, উমামা ফাতেমা তাদের অন্যতম।