শুক্রবার , ৩১ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার , ৩১ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বকয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে পৌঁছাতে পারে চীনের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা: রয়টার্স

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে পৌঁছাতে পারে চীনের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা: রয়টার্স

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে পৌঁছাতে পারে চীনের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা: রয়টার্স

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চীনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার প্রথম চালান ইরানে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সংবাদ সংস্থাটি চুক্তি-সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইরানকে ৩০০ থেকে ৪০০টি বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা হতে পারে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান। সূত্রগুলোর দাবি, চুক্তিটির সম্ভাব্য মূল্য ৬ থেকে ৭ কোটি ডলার এবং এটি ইরানের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্রয়চুক্তি।


রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় চীনের তৈরি কিউডব্লিউ-১২ (QW-12) এবং এফএন-১৬ (FN-16) ধরনের কাঁধে বহনযোগ্য ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করা হতে পারে। হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঝংশিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে বলেও সূত্রগুলোর দাবি।


তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষই চুক্তি নিশ্চিত করেনি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।


প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কিউডব্লিউ-১২ ও এফএন-১৬ ধরনের বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন মোকাবিলায় কার্যকর। সহজে বহন ও দ্রুত মোতায়েন করা যায় বলে সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তায় এসব অস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


রয়টার্স আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পশ্চিম চীনের উরুমকি থেকে বিমানযোগে অস্ত্র পাঠিয়ে পাকিস্তান হয়ে ইরানে পৌঁছানোর বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) এ ধরনের দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।


বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই অস্ত্রচুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইরানের স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এটি চীন ও ইরানের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে রয়টার্সের সূত্রগুলো সতর্ক করে বলেছে, সরবরাহের সময়সূচি, অস্ত্রের সংখ্যা এবং চুক্তির বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এখনো পরিবর্তিত হতে পারে।