শুক্রবার , ৩১ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার , ৩১ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বপ্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি ইউরোজোনে, তবু সামনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার শঙ্কা

প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি ইউরোজোনে, তবু সামনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার শঙ্কা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি ইউরোজোনে, তবু সামনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার শঙ্কা

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে ইউরোজোন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, উচ্চ জ্বালানি ব্যয় এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এই পুনরুদ্ধারের গতি শ্লথ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।


ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরো মুদ্রা ব্যবহারকারী ২১ দেশের অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় ০ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এর আগে রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা ০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।


একই সময়ে আগের বছরের তুলনায় ইউরোজোনের অর্থনীতি ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় বেশি। পাশাপাশি আগের কয়েকটি প্রবৃদ্ধির হিসাবও ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন করা হয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির মতো বড় অর্থনীতিগুলোর প্রত্যাশার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স এই প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তিন দেশই ০ দশমিক ২ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অন্যদিকে স্পেনের অর্থনীতি ০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং নেদারল্যান্ডসের অর্থনীতি ০ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।


অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, স্থিতিশীল পারিবারিক ভোগব্যয় এবং জার্মানির প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ার ফলে ইউরোজোনের অর্থনীতি ইতিবাচক গতি পেয়েছে।


শ্রমবাজারেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। জুন মাসে ইউরোজোনে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৩ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল। পাশাপাশি শিল্প ও সেবা খাতের আস্থার সূচকও প্রত্যাশার চেয়ে উন্নত হয়েছে।


তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবৃদ্ধির পেছনে কিছু সাময়িক কারণও রয়েছে। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডের ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের কারণে হয়েছে, যা ইউরোজোনের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।


কমার্জব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়র্গ ক্রেমারের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীর হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ জ্বালানিমূল্য, মূল্যস্ফীতি এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার ভোক্তা ব্যয় ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।


বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন, দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে ইউরোজোনের অর্থনীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।