শুক্রবার , ৩১ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার , ৩১ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বজাপানে ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৩৪, তীব্র গরমে বাড়ছে উদ্ধারকাজের চ্যালেঞ্জ

জাপানে ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৩৪, তীব্র গরমে বাড়ছে উদ্ধারকাজের চ্যালেঞ্জ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
জাপানে ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৩৪, তীব্র গরমে বাড়ছে উদ্ধারকাজের চ্যালেঞ্জ

দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের কুমামোটো প্রিফেকচারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। একই সঙ্গে তীব্র গরমের কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা হাজারো মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।


গত মঙ্গলবার কিউশু দ্বীপের কুমামোটো অঞ্চলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অব্যাহতভাবে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভূমিকম্পে বহু ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর একটি কাশিমা শহরের এওন শপিং সেন্টারের একটি অংশ ধসে পড়ে। পরে সেখানে একটি বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। প্রাথমিকভাবে এটি গ্যাস বিস্ফোরণ বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।


ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ৯ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তবে কুমামোটোতে আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। এতে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি ৩০০টি এয়ার কন্ডিশনার পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থাপন করা হবে। বুধবার পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল।


একটি আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তা ইউকিয়া সানোউয়ে জানান, তাদের কেন্দ্রে প্রায় এক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের প্রায় ৩০ শতাংশই বয়স্ক। ভূমিকম্পের পর দীর্ঘ সময় পানি ও বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। পরে জেনারেটরের মাধ্যমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে গরমজনিত অসুস্থতায় কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


এদিকে ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। নতুন কম্পনের আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা নিজেদের গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন।


উদ্ধারকারীরা কাশিমা শহরের এওন শপিং সেন্টারের পাশাপাশি ইয়াতসুশিরো শহরের নিপ্পন পেপার কারখানাতেও অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। ভূমিকম্পে কারখানাটির একটি অংশ ধসে পড়ে অন্তত পাঁচজন নিহত হন। উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।