ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি জানাল ইসরাইল
গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ ও আপত্তির কথা জানিয়েছে ইসরাইল। একই সময়ে গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযানও অব্যাহত রেখেছে দেশটি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনাকে ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে নীতিগত মতপার্থক্যের আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নিজের অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান জানান, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে আরও স্পষ্ট, কার্যকর এবং যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা চায় ইসরাইল। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের উদ্বেগ জানানো হয়েছে এবং প্রকাশিত পরিকল্পনা ইসরাইলের অবস্থান পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না।
গত শুক্রবার হামাস জানায়, তারা ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী অস্ত্র ত্যাগে নীতিগতভাবে রাজি রয়েছে। তবে অস্ত্রগুলো নতুন একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে।
অন্যদিকে, ইসরাইলের দাবি, যুদ্ধবিরতির সময়েও হামাস নতুন সদস্য সংগ্রহ ও অস্ত্র মজুত অব্যাহত রেখেছে। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত অক্টোবরে ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর গাজায় সহিংসতা কিছুটা কমলেও এখনো উপত্যকার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১,২০০–এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে গাজায় পাঁচজন ইসরাইলি সেনা এবং একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে ট্রাম্প সম্প্রতি ‘একটি বড় অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, এ বিষয়ে ইসরাইলও সন্তুষ্ট। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ রোডম্যাপে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান দ্রুত বন্ধ করা এবং ধাপে ধাপে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে ইসরাইল স্পষ্ট জানিয়েছে, হামাসকে সম্পূর্ণ, স্থায়ী এবং যাচাইযোগ্যভাবে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত তারা গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না।