মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে রিজভীর নামেই আস্থা বিএনপিতে
বিএনপির দ্বিতীয় শীর্ষ পদ মহাসচিব। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এই পদে থাকা নেতা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বটি পালন করলেও বয়স ও শারীরিক কারণে তিনি আর মহাসচিব পদে থাকতে আগ্রহী নন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এরই মধ্যে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টিও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দলের কঠিন সময়ে ভূমিকার কারণে মহাসচিব পদে রিজভীকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির দুঃসময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন রিজভী। গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলনে তিনি একাধিকবার গ্রেফতার ও কারাবরণ করেছেন। দীর্ঘ সময় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে দলীয় কর্মসূচি পরিচালনা এবং দলের মুখপাত্র হিসেবে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গেও রিজভীর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব হিসেবে সাংগঠনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে দলের মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে তার ভালো ধারণা রয়েছে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, মহাসচিব পদ নিয়ে কী আলোচনা হচ্ছে, তা তার জানা নেই। তবে তিনি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও নীতিনির্ধারকেরা তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই বলে জানান তিনি।
বিএনপির মহাসচিব পদ নিয়ে আলোচনায় এর আগে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও সামনে এসেছিল। তবে বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সে তুলনায় রিজভী দীর্ঘদিন ধরে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগে সক্রিয় রয়েছেন।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মতে, মহাসচিবের দায়িত্ব শুধু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সরকার ও দলের মধ্যে সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ ক্ষেত্রে রিজভীকে দায়িত্ব দেওয়া হলে দলের সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে মহাসচিব পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই নেবেন।
### দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন রুহুল কবির রিজভী। প্রথমদিকে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসেন। ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন এবং ১৯৯২ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হন।
১৯৮৪ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে আহত হন রিজভী। রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়।
২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
বিএনপির কঠিন সময়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দীর্ঘদিন অবস্থান করে সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রেও রিজভীর ভূমিকা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচিত। দলীয় সূত্রের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত টানা ৭৮৭ দিন তিনি দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেন।
বিএনপির এক যুগ্মমহাসচিব বলেন, রিজভী দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য পূর্ণকালীন কাজ করছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে এবং দলের সাংগঠনিক বাস্তবতাও তিনি ভালো বোঝেন।
তৃণমূলের কয়েকজন নেতার মতে, দুঃসময়ে দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে রিজভীর প্রতি তাদের আস্থা তৈরি হয়েছে। তাদের ধারণা, মহাসচিবের দায়িত্ব পেলে তিনি দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন।