‘প্রত্যেক এমপিকে ডাকো, সব জায়গায় আগুন দেবে’: ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার ফোনালাপ
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যদের মাঠে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ-সংক্রান্ত একটি ফোনালাপের রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার (১০ আগস্ট) ওবায়দুল কাদেরসহ আট আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শুনানির সময় ফোনালাপটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের দমন, বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান এবং অগ্নিসংযোগের পালটা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনার কথা উঠে এসেছে।
ফোনালাপে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন শোনা যায় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। একপর্যায়ে শেখ হাসিনা বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের অবস্থান এবং অগ্নিসংযোগের প্রসঙ্গ তুলে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার নির্দেশ দেন।
তিনি বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার পাশাপাশি প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে ডেকে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা দেন বলে ফোনালাপে শোনা যায়।
এ সময় বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের প্রসঙ্গও উঠে আসে। শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের কথা বলেন এবং কিছু এলাকায় র্যাব পাঠানোর নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন বলে প্রসিকিউশনের দাবি।
ফোনালাপের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার প্রসঙ্গও আসে। তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য খুঁজে বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়।
প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ফোনালাপে আন্দোলন দমনে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয় করা এবং বিভিন্ন এলাকায় পালটা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে একাধিক নির্দেশনার কথা উঠে এসেছে।
তবে ফোনালাপটির সত্যতা ও এর প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্ধারিত হবে।