নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার হারাচ্ছে আওয়ামী লীগ
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব ধরনের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির পক্ষে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হবে না। পাশাপাশি দলটির নিবন্ধন বাতিলের বিষয়েও আলোচনা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি সূত্র জানায়, দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলে সেই দল ভোটার তালিকা, প্রতীক বরাদ্দ বা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অধিকার হারায়। সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলি বলেন, গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিয়ে জরুরি সভায় বসবে এবং সিদ্ধান্ত নেবে নিবন্ধন স্থগিত থাকবে কি না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশের পরই কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে দলটি ও তাদের শীর্ষ নেতাদের আর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধকে ‘নৃশংস ইতিহাস’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এমন অপরাধীদের নির্বাচনী রাজনীতি থেকে দূরে রাখার পক্ষে সুপারিশ করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো দলের নিবন্ধন বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আপাতত ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ করা হয়েছে, তবুও নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এর আগে জামায়াতে ইসলামীসহ পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধের আইনি ভিত্তি সংযোজন করা হয়েছে। গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সংশোধনী অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী একাংশ দাবি করেছে, দলটিকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং ‘জুলাই সুরক্ষা আইন’ ও ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করতে হবে। তারা শাহবাগে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে এসব দাবি উত্থাপন করেছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সরকার আন্তর্জাতিকভাবে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা করে না। বরং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত একটি দলের কার্যক্রম বন্ধ হওয়াকে বিশ্ব গণতন্ত্র রক্ষা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখবে বলে মনে করেন তিনি।