রোগীর মৃত্যু ঘিরে শজিমেকে স্বজন-ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ, আহত ১২
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালের সপ্তম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর নিজেদের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগে চারজন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাসহ রোগীর ছয় স্বজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকদের মধ্যে বগুড়া শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইসলাম ও যুগ্ম আহ্বায়ক প্রান্ত পুলিশ হেফাজতে শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপর চারজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বগুড়া শহরের রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক অ্যাজমা জটিলতা নিয়ে শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রোগীর স্বজন ও তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন বহিরাগত তিনজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। এ সময় আদনান ইসলাম অর্ক নামের এক ইন্টার্ন চিকিৎসক তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাঁর ওপরও হামলা চালান। পরে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়।
খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা-পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ রোগীর ছয় আহত স্বজনকে হেফাজতে নেয়।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ দাবি করেন, বহিরাগতদের হামলায় অন্তত ছয়জন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন। কয়েকজন চিকিৎসকের হাত ভেঙে যাওয়ার মতো জখম হয়েছে বলেও জানান তিনি। নিরাপত্তা ও হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে বলে জানান তিনি।
চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর-এ-মোর্শেদ। তিনি বলেন, হামলায় ইন্টার্ন ও মিড লেভেল মিলিয়ে ছয়জন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। প্রশাসন ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক নেতারা পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি; জ্যেষ্ঠ ও মিড লেভেলের চিকিৎসকদের মাধ্যমে সেবা চালু রয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী বলেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।