মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা
ইরানে মার্কিন বাহিনীর নতুন করে বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বুধবার ভোরে জর্ডান, কুয়েত, ইরাক ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় সমন্বিত হামলা চালায় ইরানের অভিজাত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন সিরিক কাউন্টিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি স্প্লিন্টার বিয়ের অনুষ্ঠানে আঘাত হানে। এতে এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হন বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট।
ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘চরম অনুশোচনা’ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বেসামরিক মানুষ নিহতের খবর সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানালেও দাবি করেছে, তারা কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।
ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থার তথ্যমতে, সিরিকে হামলার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে বুধবার ভোরে জর্ডানের আকাবায় অবস্থিত একটি মার্কিন মেরিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে আইআরজিসি।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশেই ১৩টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এর মধ্যে ১০টি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয় এবং বাকি তিনটি জনবসতিহীন দূরবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়ে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
একই সময়ে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বুধবার ভোরে ধেয়ে আসা একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্রিয় হয়। এ ছাড়া বাহরাইনেও একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
অন্যদিকে ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, হামলায় ঘাঁটির একটি প্রধান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, গুদাম এবং একাধিক সামরিক সরঞ্জাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ তুলে এক মাসের বিরতির পর মঙ্গলবার থেকে ইরানে আবারও বিমান হামলা জোরদার করে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকমের হামলায় চাবাহার, কোনারক ও জিরোফত বিমানবন্দরসহ ইরানের একাধিক এলাকা আক্রান্ত হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলায় পুরো অঞ্চলজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।