বৃহস্পতিবার , ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমজাতীয়সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য শনাক্তে সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য শনাক্তে সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য শনাক্তে সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তে সরকারি তথ্য ব্যবস্থায় সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।


বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানানো হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।


লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য ও গুজব দ্রুত শনাক্ত করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং ও তথ্য যাচাই কাঠামো গড়ে তুলেছে।


তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ‘ফ্যাক্টচেকিং ও গুজব প্রতিরোধ কমিটি’ সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এ কমিটির দিকনির্দেশনায় প্রধান কার্যালয়সহ বিভাগীয় শহরগুলোর আঞ্চলিক তথ্য অফিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মনিটর করে।


অপতথ্য ও গুজব শনাক্ত হওয়ার পর বস্তুনিষ্ঠ তথ্যসমৃদ্ধ সরকারি ফ্যাক্টচেক বার্তা ও স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি তথ্য অধিদপ্তর ও আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলোর ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়।


লিখিত জবাবে আরও জানানো হয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া অ্যানালাইসিস কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


পিআইবির ফ্যাক্টচেকিং ইউনিট ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এ পর্যন্ত ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ভিডিও বা রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকাশ করা হয়েছে ৩০৬টি।


এ ছাড়া পিআইবির প্রশিক্ষণ বিভাগ ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০টি প্রশিক্ষণে ৭৩৯ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও ফ্যাক্টচেকিং বিষয়ে ১৪টি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এসব প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে বলেও জানানো হয়। গত দুই বছরে পিআইবির প্রতিটি প্রশিক্ষণে অন্তত একদিন গুজব মোকাবিলায় করণীয়, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।


প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ও নাম ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট। এ ছাড়া সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণ করে প্রচারণা ও অপতথ্য ছড়ানো ১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করা হয়েছে।


বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ায়—এমন ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স অ্যাকাউন্টও শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাফ্যাক্ট প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৫টি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন, রিল ও ভিডিও প্রকাশ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।