নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চলমান ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হয়ে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমারও কোনো লক্ষণ নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
টেক্সাসে রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, তার ধারণা, নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। কারণ তেহরান আর বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না। যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তেহরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্য স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ ও দুর্ভোগ মেনে নেওয়া প্রয়োজন বলেও যুক্তি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করে ট্রাম্প দাবি করেন, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের মতো ‘দুর্বল নেতৃত্বকে’ সুবিধা দিতে ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। তার অভিযোগ, এর মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ পেতে পারে।
এর আগে সংঘাত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন। তবে এখন যুদ্ধ সপ্তম মাসে গড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিন ও ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর প্রভাব ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপরও পড়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের পতনের পাশাপাশি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় থাকা রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও যুদ্ধ বন্ধের জন্য চাপ বাড়ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলা তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের পাঁচটি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও আটটি তেলের ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার দাবি করেছে তেহরান।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুদ্ধের প্রভাব দেশটির জ্বালানি বাজার, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কতটা পড়ে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।