‘হরমুজের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে, যুদ্ধও আমরাই শেষ করব’: হেগসেথ
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রই জয়ী হবে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইও তারাই শেষ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকীর স্মরণ অনুষ্ঠানে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। পেন্টাগনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হেগসেথ বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানোই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো এমন শত্রুর মুখোমুখি, যারা দেশটির নাগরিকদের ক্ষতি করতে চায়। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই এখনো অব্যাহত রয়েছে। এমন শত্রু রয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি দুর্বল করা এবং দেশে-বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করে।
স্মরণ অনুষ্ঠানে গত ছয় মাসে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন হেগসেথ। তার দাবি, এই সময়ে ইরানের কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, দেশটির বিমান বাহিনী ধ্বংস করা হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। একই সঙ্গে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রতিদিন আরও বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
হেগসেথ আরও বলেন, ‘আমরা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণে আছি। আমরা এই লড়াই শেষ করব।’
এদিকে ৯/১১ হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে ধরায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। অনুষ্ঠানটি মূলত ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণ ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আয়োজন করা হয়েছিল।
নিজের বক্তব্যে অবশ্য ট্রাম্প মূলত ৯/১১ হামলার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ এবং ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হওয়া জাতীয় ঐক্যের বিষয়েই গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে বিদেশে দায়িত্ব পালনরত মার্কিন সেনাসদস্যদেরও সম্মান জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত মার্কিন সেনাদের সম্মান জানানো হচ্ছে, যারা বিশ্বের অন্যতম বড় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে কাজ করছেন।
৯/১১ হামলার স্মরণ অনুষ্ঠানে ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অবস্থান ও বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।