গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোর করে সরানো হবে না: যুক্তরাষ্ট্র
গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন প্রশাসনের এমন বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ইসরায়েলের কয়েকজন মন্ত্রী গাজা থেকে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব সামনে এনেছেন। তারা বিষয়টিকে ‘স্বেচ্ছায় অভিবাসনে উৎসাহিত করা’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
এরই মধ্যে ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রচারণাও জোরদার হয়েছে। দেশটির ক্ষমতাসীন জোটের কট্টর ডানপন্থি নেতারা প্রচারণায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, দমন-পীড়ন ও সহিংসতার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ভিডিওতে ডানপন্থি সমর্থকদের উজ্জীবিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের আক্রমণ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা গাদি আইজেনকটকে ইসরায়েলি বামপন্থি ও ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি রাজনীতিক মানসুর আব্বাসের জন্য ‘ছদ্মবেশী ঘোড়া’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের নির্বাচনী প্রচারণায় অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সেখানে বসতি সম্প্রসারণে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করছেন তিনি।
সবচেয়ে বিতর্কিত প্রচারণার মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কার্যক্রম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এমন বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করছেন, যেখানে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
সম্প্রতি বেন-গভির একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভিডিও প্রকাশ করেন। এতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের একটি পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসরায়েলি কারাগারে নিয়ে গিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো দৃশ্য দেখানো হয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হলেও এরই মধ্যে সেটি বহুবার দেখা ও ডাউনলোড করা হয়েছিল।
আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে ইসরায়েলের ডানপন্থি দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ডানপন্থি দলগুলোকে একজোট করার চেষ্টা করছেন। ছোট দলগুলো পর্যাপ্ত ভোট না পেলে ডানপন্থি ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনাকে দুর্বল করতে পারে।
এ অবস্থায় কট্টর ডানপন্থি নেতারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং বেন-গভিরসহ নেতানিয়াহুর কয়েকজন মিত্র প্রকাশ্যে এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জোরপূর্বক ফিলিস্তিনি স্থানান্তর না করার কথা বলা হলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। নিরাপত্তাহীনতা, মানবিক সংকট ও জীবনধারণের কঠিন পরিস্থিতির কারণে গাজা ছাড়ার সিদ্ধান্তকে প্রকৃত অর্থে স্বেচ্ছামূলক বলা কঠিন হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
গাজা যুদ্ধের পর উপত্যকাটির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ, পুনর্গঠন এবং সেখানে ফিলিস্তিনিদের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা এবং ইসরায়েলি কট্টর ডানপন্থি নেতাদের বক্তব্য বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।