কিম জং উনের আরও এক সন্তানের তথ্য জানাল দক্ষিণ কোরিয়া
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মেয়ে কিম জু-এয়ের একজন ছোট ভাই বা বোন রয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা এ তথ্য জানায়।
নতুন এ তথ্যের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার শাসক পরিবারের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নিয়ে আরও কিছু বিষয় সামনে এসেছে। তবে কিম জং উনের মোট কতজন সন্তান এবং তাদের মধ্যে কে আগে বা পরে জন্মেছে, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয় দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা জানিয়েছিল, কিম জং উনের সম্ভবত তিন সন্তান রয়েছে। বর্তমানে তার মেয়ে কিম জু-একে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তার ছোট ভাই বা বোন সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো জানা যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, কিমের আরও একটি ছোট সন্তান রয়েছে বলে তারা ধারণা করছে। শিশুটি ছেলে নাকি মেয়ে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গোয়েন্দাদের বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী, কিম জু-একে ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তার একজন ছোট ভাই বা বোন রয়েছে।
কিম পরিবার দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়া শাসন করে আসছে। কিম জং উন এই পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের নেতা। তার সন্তানদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাব্য উত্তরসূরি উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কিম জু-এ প্রথমবার ২০২২ সালে প্রকাশ্যে আসেন। সে সময় বাবার সঙ্গে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়। এরপর থেকে উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজনে বাবার পাশে নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়া এর আগে জানিয়েছিল, কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সোল-জুর প্রথম সন্তান সম্ভবত একটি ছেলে, যার জন্ম ২০১০ সালে। কিম জু-একে তাদের দ্বিতীয় সন্তান বলে ধারণা করা হয়। তবে ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, কিমের ছেলে সন্তান থাকার বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করতে পারেনি।
### সম্ভাব্য উত্তরসূরি কিম জু-এ
উত্তর কোরিয়া তাদের নেতা ও শাসক পরিবারের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব কম তথ্য প্রকাশ করে। ফলে কিম জং উনের সন্তানদের সংখ্যা, বয়স ও পরিচয় নিয়েও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, কিম জু-এয়ের কোনো বড় ভাই আছে কি না, সেটিও তারা খতিয়ে দেখছে। তবে বড় ভাই থাকলেও তিনি ভবিষ্যৎ নেতা হওয়ার অবস্থানে নেই বলে গোয়েন্দাদের ধারণা।
কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল এএফপিকে বলেন, কিমের সন্তানদের বয়স বা তারা ছেলে নাকি মেয়ে—এর চেয়ে কে ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দিতে পারে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, কিম জং উন নিজেও পরিবারের বড় ছেলে ছিলেন না; তারপরও তৃতীয় প্রজন্মের নেতা হিসেবে ক্ষমতায় এসেছেন।
অধ্যাপক লিমের মতে, কিম জং উন তার সন্তানদের মধ্যে কে তার নেতৃত্ব ও কাজ সবচেয়ে ভালোভাবে এগিয়ে নিতে পারবেন, সেটিই বিবেচনা করবেন। তার ধারণা, কিম জং উন কিম জু-এয়ের মধ্যেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা দেখেছেন। এ কারণেই তাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সামনে আনা হচ্ছে।
২০২২ সালের পর থেকে কিম জু-এ তার বাবার সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে বেইজিং সফরও রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম তাকে ‘প্রিয় সন্তান’ ও ‘পথপ্রদর্শক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সাধারণত দেশটির শীর্ষ নেতা বা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের নজির রয়েছে।
২০২২ সালের আগে কিম জু-এ সম্পর্কে প্রকাশ্যে তথ্য দিয়েছিলেন সাবেক বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যান। তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে কয়েকবার উত্তর কোরিয়া সফর করেছিলেন।
কিম জু-এ তার পোশাকের কারণেও বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছেন। তাকে দামি গুচি সানগ্লাস ও কার্টিয়ারের ঘড়ি পরতে দেখা গেছে। আবার বাবার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একই ধরনের পোশাকেও দেখা যায় তাকে। একাধিকবার কিম জং উনের সঙ্গে মিলিয়ে কালো চশমা ও চামড়ার জ্যাকেট পরতে দেখা গেছে কিম জু-একে।