‘তোমরা মারো না কেন? মারো’: সাদ্দামকে কাদেরের উসকানির দাবি চিফ প্রসিকিউটরের
আন্দোলনকারীদের মারধরের জন্য নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে উসকানি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাদ্দামের সঙ্গে কথোপকথনের সময় কাদের বলেছিলেন, ‘তোমরা মারো না কেন? মারো।’
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সাত আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে তৎকালীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান। এ সময় নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ১১ জুলাই সাদ্দামকে ‘মারো না কেন, মারো’ বলা হয়েছিল। এর পর ১৬ জুলাই ওয়াসিম, আবু সাঈদসহ কয়েকজন নিহত হন। পরে ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ। এ সময় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন বলেও জানান তিনি।
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ওবায়দুল কাদের আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগই যথেষ্ট বলেও মন্তব্য করেছিলেন। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ডের কারণেই এত বড় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং সারাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা ঘটেছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় ও ঊর্ধ্বতন কমান্ডের দায়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত দায়ও ছিল।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সব আসামি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ওবায়দুল কাদেরের আরেকটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি ‘শুট অ্যাট সাইট’—অর্থাৎ দেখামাত্র গুলির নির্দেশনার কথা বলেছিলেন। একই সঙ্গে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।