বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল ২০২৬
হোমরাজনীতিফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল, চাঁদাবাজির পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তাল রাবি

ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল, চাঁদাবাজির পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তাল রাবি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল, চাঁদাবাজির পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তাল রাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের এক শিক্ষকের চেম্বারে নারী শিক্ষার্থী আটকের ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাংবাদিক ও এক সাবেক ছাত্রনেতা।

শনিবার (১৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ মার্কেটের আমতলা চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তোলেন ফাইন্যান্স বিভাগের ২০১৮-১৯ বর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী। আগের দিন নগরের মতিহার থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তিনি।

অভিযুক্তরা হলেন:

নাজমুস সাকিব, আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী

আতাউল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক

সিরাজুল ইসলাম সুমন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সংবাদপত্রের প্রতিনিধি

সাজ্জাদ হোসেন সজীব, দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১১ মে সন্ধ্যায় ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হেদায়েত উল্লাহর চেম্বারে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করেন অভিযুক্তরা, অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে। পরে ১৪ মে ফেসবুকে সাত সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ছাত্ররা মানববন্ধন করে ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানায়। বিভাগের একাডেমিক কমিটি তদন্ত চলাকালীন উভয়কে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

নারী শিক্ষার্থী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "আমি স্যারের কাছে পড়া বুঝতে গিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ চারজন ব্যক্তি কক্ষে ঢুকে আমাকে হুমকি ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করে। পরে তারা পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে, যার মধ্যে তিন লাখ টাকা দিয়ে দিয়েছি, বাকি টাকা ১৮ মে দিতে বলেছিল।"

অন্যদিকে, দুই সাংবাদিক সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারা বলেন, "কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। আমরা শুধু একটি অনৈতিক ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলাম।"

ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষক হেদায়েত উল্লাহ বলেন, "ওই ছাত্রী আমার কাছে পড়তে এলে হঠাৎ করে চারজন আমার চেম্বারে ঢুকে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। পরে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব জানান, বিষয়টি তদন্তে বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসনও ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।