বুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমবিশ্বযোগাযোগ কার্যালয় ধ্বংস: উত্তর কোরিয়াকে ৩২.৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

যোগাযোগ কার্যালয় ধ্বংস: উত্তর কোরিয়াকে ৩২.৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
যোগাযোগ কার্যালয় ধ্বংস: উত্তর কোরিয়াকে ৩২.৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

২০২০ সালে একটি আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয় বিস্ফোরণে ধ্বংস করার ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারকে ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ওন বা প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।


বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিউল সেন্ট্রাল জেলা আদালতের এক মুখপাত্র এ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয় ধ্বংসের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা এটিই প্রথম মামলা বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।


দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো একসময় উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকদের নিয়োগ করত এমন কায়েসং শিল্পাঞ্চলের পরিত্যক্ত এলাকায় কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়েছিল। দুই কোরিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যেই ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে এটি চালু করা হয়।


তবে ২০২০ সালের জুনে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর মধ্যেই উত্তর কোরিয়া বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কার্যালয়টি ধ্বংস করে। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু অধিকারকর্মী সীমান্তের ওপারে উত্তর কোরিয়াবিরোধী প্রচারপত্র বহনকারী বেলুন পাঠালে দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। সে সময় পিয়ংইয়ং কার্যালয়টিকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।


দক্ষিণ কোরিয়া সরকার জানিয়েছে, আদালতের রায়ের পর তারা প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যালোচনা করবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়া বাস্তবে এই ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম।


২০২৩ সালে তৎকালীন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের সরকারের সময়ে মামলাটি করা হয়। উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া ইউন পরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ উদ্যোগের পর ক্ষমতাচ্যুত হন।


২০১৮ সালে আন্তঃকোরীয় সম্পর্কের উন্নতির সময় দুই দেশের মধ্যে একাধিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে মুন জায়ে-ইন ও কিম জং উনের তৃতীয় শীর্ষ বৈঠকের সময়ও যোগাযোগ কার্যালয়টি কার্যকর ছিল।


কার্যালয়টিতে দুই দেশের প্রায় ২০ জন করে কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতেন। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।


২০১৮ সালে মুন জায়ে-ইন ও কিম জং উনের মধ্যে তিনটি শীর্ষ বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই কোরিয়ার সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। পরে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে কিম জং উন ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর দুই কোরিয়ার সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।


সূত্র: আলজাজিরা