সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমবিশ্বট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারলেন না সিএনএনসহ তিন গণমাধ্যমের সাংবাদিক

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারলেন না সিএনএনসহ তিন গণমাধ্যমের সাংবাদিক

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারলেন না সিএনএনসহ তিন গণমাধ্যমের সাংবাদিক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পর সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। শনিবার এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন সাংবাদিকের প্রেস ব্যাজ নিষ্ক্রিয় বা জব্দ করা হয়। গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে সংবাদ সংগ্রহের অধিকার রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার একদিন পর হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধার মুখে পড়েছেন সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা।


শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এসব প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। সিএনএনের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি বেটসি ক্লেইন এবং এমএস নাও-এর প্রতিনিধি আকায়লা গার্ডনার জানান, তাদের প্রেস ব্যাজ নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। পলিটিকোর হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি চেয়েন হাসলেটকেও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং তার ব্যাজ নিয়ে নেওয়া হয়।


এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। এসব গণমাধ্যম তার প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে ‘ভুয়া’ ও ‘মিথ্যা’ সংবাদ প্রকাশ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে আরও কিছু সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন।


সিএনএনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত অধিকার রয়েছে তাদের। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তারা নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নেবে। পলিটিকোও সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ ও সংবাদ সংগ্রহের অধিকার রক্ষায় আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।


হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জ্যাকুই হাইনরিখও সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিলের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ার কারণে একটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়ার নজির তৈরি হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের পদক্ষেপ অন্য সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও নেওয়া হতে পারে। তিনি নিষিদ্ধ গণমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছেন।


ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও সিএনএনের সাংবাদিক জিম অ্যাকোস্টার প্রেস ক্রেডেনশিয়াল বাতিল করা হয়েছিল। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে তা পুনর্বহাল হয়। দ্বিতীয় মেয়াদেও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের কিছু কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে।


নতুন নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন গণমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে আবারও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে আইনি প্রশ্নও সামনে এসেছে।