সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমবিশ্বআইসিসির বিরুদ্ধেই নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের

আইসিসির বিরুদ্ধেই নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
আইসিসির বিরুদ্ধেই নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।


এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা আন্তর্জাতিক আদালতটির ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও বাড়বে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।


ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে আইসিসির কার্যক্রমের বিরোধিতা করে আসছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে আদালতের পুরোনো তদন্ত বন্ধের জন্য ওয়াশিংটন আইসিসির ওপর চাপ দিয়ে আসছে।


গত জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগের কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি অন্যান্য দেশকেও আদালটি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। এরই মধ্যে আইসিসির কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।


### জাতিসংঘ অধিবেশনের মধ্যেই ঘোষণা হতে পারে


আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও ঠিক কখন তা ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।


ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।


পুরো আইসিসির পাশাপাশি আদালটির সঙ্গে সহযোগিতা করা বিভিন্ন সংস্থাকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হলে এর স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও কোম্পানিগুলো বিশেষ অনুমতি ছাড়া আইসিসিকে অর্থ, পণ্য বা কোনো ধরনের সেবা দিতে পারবে না। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ব্যাংকগুলোও কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করতে পারে।


### ব্যাহত হতে পারে আইসিসির বিভিন্ন কার্যক্রম


পুরো আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আদালটির দৈনন্দিন কার্যক্রমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও বিমা সংগ্রহ, তদন্তকারী নিয়োগ এবং নিয়মিত আর্থিক লেনদেন পরিচালনার মতো কার্যক্রম রয়েছে।


এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত কয়েক ডজন কর্মীর বেতন পরিশোধের মতো দৈনন্দিন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আইসিসির রেজিস্ট্রার ও প্রেসিডেন্ট।


আইসিসির কার্যক্রম বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে এর প্রশাসনিক ও তদন্ত কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।


### আইসিসির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ দীর্ঘদিনের


আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধ নতুন নয়। তার প্রথম মেয়াদেও আইসিসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।


২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর গাজা সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এরপর আদালটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা আবারও সামনে আসে।


২০০২ সালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করাই আদালটির প্রধান দায়িত্ব। কোনো দেশ এসব গুরুতর অপরাধের বিচার করতে না পারলে বা করতে অনিচ্ছুক হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইসিসি তার এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে।


তবে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসির সদস্য ছিল না।


পুরো আদালতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র ও আইসিসির দীর্ঘদিনের বিরোধকে আরও জটিল করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ট্রাম্প প্রশাসন এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দেয় কি না।