ইরানের ওপর চাপের তিন কৌশলগত লক্ষ্য জানালেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নিষেধাজ্ঞার পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের তিনটি কৌশলগত লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশাসনের এই কৌশল ও সম্ভাব্য পরিণতি তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাব তুলে ধরে বেসেন্ট দাবি করেন, দেশটির আন্তর্জাতিক বহির্গামী ফ্লাইটের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের বেশি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কীভাবে দেশে ফিরবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।
হরমুজ প্রণালি ও সাগরে তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার খবরের বিষয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, বেশিরভাগ ট্যাংকার এখনো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।
ইরানকে সহযোগিতা করা বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বেসেন্ট। তিনি বলেন, ইরানকে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিদিন ও প্রতি সপ্তাহে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
ইরানের ওপর বহুমুখী চাপ প্রয়োগের চূড়ান্ত লক্ষ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বেসেন্ট তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম সম্ভাবনা হলো অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপের ফলে ইরানের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও বিভাজন তৈরি হওয়া।
দ্বিতীয় সম্ভাবনা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, তীব্র সংকটের মধ্যে ইরানের সাধারণ জনগণের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান বা বিদ্রোহ দেখা দেওয়া।
তৃতীয়ত, ইরান যদি সংঘাত এড়িয়ে নতুন কোনো সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী হয়, তাহলে সেই চুক্তির শর্তগুলো পুরোপুরি মেনে নিতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য বলে জানান বেসেন্ট।