বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্যিক জোটে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ
##বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্যিক জোট ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে’ (আরসিইপি) বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। বাংলাদেশসহ চার দেশ ও অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বিশেষ বা অ্যাডহক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সুপারিশ অনুমোদন করেছেন জোটের বাণিজ্যমন্ত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৫ম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা আরসিইপি যৌথ কমিটির দেওয়া এ সুপারিশে আনুষ্ঠানিক সম্মতি জানান।
বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় থাকা অন্য দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা এবং হংকং (চীন)।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আরসিইপি একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জোটের পরিধি সম্প্রসারণ এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রস্তাবিত ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।
আরসিইপিতে বর্তমানে আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশের পাশাপাশি চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড রয়েছে। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এ জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি হলে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।
বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সদস্যপদের জন্য আবেদন করা দেশগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদ্যমান অপ্রয়োজনীয় বাধা দূর করা এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।
যৌথ বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি এবং নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য ড. শেন রেটি সহ-সভাপতিত্ব করেন।