ভারতে দেড় লাখ রুপির নিচে নামল সোনার দাম
ভারতের বাজারে সোনার দামে বড় পতন হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম গুরুত্বপূর্ণ দেড় লাখ রুপির সীমার নিচে নেমে গেছে।
সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এমসিএক্সে অক্টোবরের চুক্তিতে প্রতি ১০ গ্রাম বিশুদ্ধ সোনার দাম কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৯ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
আগের দিনের তুলনায় এই দাম কমেছে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ। রোববার প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৮১ রুপি। সোমবার বাজার শুরুর পর একপর্যায়ে দাম নেমে আসে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৭ রুপিতে। অর্থাৎ একপর্যায়ে আগের দিনের তুলনায় দাম কমে যায় ৩ হাজার ২০০ রুপিরও বেশি।
তবে এমসিএক্সে নির্ধারিত এই দর সরাসরি খুচরা বাজারে বিক্রি হওয়া গহনার দাম নয়। খুচরা পর্যায়ে সোনার মূল্যের সঙ্গে ৩ শতাংশ পণ্য ও পরিষেবা কর এবং গহনা তৈরির মজুরি যুক্ত হয়। এ ছাড়া বাজারে ব্যবহৃত অধিকাংশ গহনা ২২ বা ১৮ ক্যারেটের হওয়ায় ২৪ ক্যারেট সোনার এই দর সরাসরি গহনার বিক্রয়মূল্য নির্দেশ করে না।
### আন্তর্জাতিক বাজারেও পতন
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে। ১ সেপ্টেম্বরের পর এক দিনে এটিই ছিল সোনার দামের সবচেয়ে বড় পতন।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। সাধারণত সোনা থেকে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদনির্ভর সম্পদ তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। এতে সোনার চাহিদা ও দামে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
### শক্তিশালী ডলারের প্রভাব
সোনার দাম কমার পেছনে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও ভূমিকা রাখছে। গত সপ্তাহে ডলারের মূল্য দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও বেড়েছে।
ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাড়ায় ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারে সোনার মূল্য নির্ধারিত হওয়ায় ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত সোনার দামে চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারেও।
সূত্র: এনডিটিভি