‘এআই’-এর নতুন নাম ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’, নির্বাহী আদেশ ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের পর ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ শব্দ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘সুপার ইন্টেলিজেন্সের যুগের সূচনা’ শিরোনামের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, আইন যতটা অনুমতি দেয়, সরকারি কাজে ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহার করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের সব বিভাগ ও সংস্থাকে সরকারি চিঠিপত্র, জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন ও নীতিমালার নথিতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ এবং ‘এসআই’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে। তবে নতুন এই পরিভাষা আগের সরকারি নিয়ম, চুক্তি, অনুদান বা পুরোনো নথির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
নির্বাহী আদেশে নতুন পরিভাষা ব্যবহারের কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ৭০ বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক এআই শুধু মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ অনুকরণ বা স্বয়ংক্রিয় করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের চিন্তা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের সক্ষমতাও বাড়াতে পারে।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞান, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তাই সরকারি কাজে ব্যবহৃত পরিভাষায় প্রযুক্তিটির বর্তমান সক্ষমতাও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্র সরকার দেশটির আইনে থাকা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র সংজ্ঞাই ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করবে। মার্কিন আইনের ১৫ নম্বর শিরোনামে থাকা এই সংজ্ঞার ভিত্তিতে কাজ চলবে।
একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহকারীকে ৬০ দিনের মধ্যে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর জন্য নতুন একটি সরকারি সংজ্ঞার প্রস্তাব কংগ্রেসে জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশও করতে বলা হয়েছে।
এর আগে হোয়াইট হাউসে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে একটি বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন ট্রাম্প। এতে স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক, মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ, গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই এবং এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিকে নতুন একটি যুগের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রযুক্তি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি ইন্টারনেটের চেয়েও বড় এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বৈঠকের পর প্রযুক্তি খাতের নির্বাহী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ প্রযুক্তি নিরাপদভাবে উন্নয়নের লক্ষ্যে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে।
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বলেন, প্রযুক্তিটি যেন প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করে, সে বিষয়ে মার্কিন জনগণ ও গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে তারা কাজ করছেন। অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোডিও নিরাপদভাবে প্রযুক্তির উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।
আলোচনায় জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জে ক্লেটন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নেতৃত্ব ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।