শুক্রবার , ০২ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার , ০২ অক্টোবর ২০২৬
হোম › রাজনীতি › ‘মিথ্যাকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যা বানায় রাবি শিবির’: সালাহউদ্দিন আম্মার

‘মিথ্যাকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যা বানায় রাবি শিবির’: সালাহউদ্দিন আম্মার

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
‘মিথ্যাকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যা বানায় রাবি শিবির’: সালাহউদ্দিন আম্মার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সাথী পদ থেকে অব্যাহতি এবং বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলেছেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাবি শিবিরের একটি প্রবণতা হলো মিথ্যাকে সত্য এবং সত্যকে মিথ্যা হিসেবে উপস্থাপন করা।


বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।


সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, তার বিরুদ্ধে নারী সংশ্লিষ্টতা, চাঁদাবাজি এবং অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার মতো অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তার ভাষ্য, অভিযোগ তুলে পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকেই তা করেননি—এমন বিষয় প্রমাণ করতে বলা হচ্ছে।


তিনি প্রশ্ন করেন, যে কাজ তিনি করেননি, সেটি করেননি—এর প্রমাণ তিনি কীভাবে দেবেন? উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কাউকে চোর বলে একটি কথা ছড়িয়ে দেওয়া হলে ওই ব্যক্তি কীভাবে প্রমাণ করবেন যে তিনি চোর নন।


নারী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে আম্মার বলেন, ক্যাম্পাস জীবনে কোনো নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন বলে তিনি মনে করেন না, যা অন্য কোনো সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। নিজের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন না তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি শিবিরের এক দায়িত্বশীল ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার দাবি, নারী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শিবির কাউকে বহিষ্কার করে না।


চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে আম্মার বলেন, একসময় তাকে ৭৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মিডিয়া ট্রায়ালের মুখে পড়তে হয়েছিল। তার দাবি, জুলাই আন্দোলন নিয়ে একটি কনসার্ট আয়োজনের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। তৎকালীন উপাচার্য তাকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এত অর্থ ব্যয়ে আয়োজন করা সম্ভব নয় এবং চাইলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য সুপারিশ করা যেতে পারে।


আম্মার বলেন, এরপর তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানির কাছে প্রস্তাবপত্র নিয়ে যান। তার দাবি, ওই চিঠিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ছড়ানো হয় এবং তখন থেকেই তার নামের সঙ্গে ‘চাঁদাবাজ’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে।


অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন কমিটি গঠনের সময় রাজশাহীর স্থানীয় শিক্ষার্থীরা একটি কমিটি নিয়ে তার কাছে এসেছিলেন। তবে ওই কমিটি গঠনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, পরবর্তীতে ঘটনাগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে একটি নির্দিষ্ট বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে।


শিবিরের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়েও বক্তব্য দেন আম্মার। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শিবিরের পরিচয় প্রকাশ্যে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকে যখন দ্বিধায় থাকতেন, তখন তিনি শিবিরের একটি অফিসিয়াল গানে অভিনয় করেছিলেন। এ-সংক্রান্ত একটি পুরস্কার এখনও তার রাকসু দফতরের শেলফে রয়েছে বলেও জানান তিনি।


তবে নিজেকে শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলা হলে তিনি আপত্তি করেন না উল্লেখ করে আম্মার বলেন, ডানপন্থী সংস্কৃতির চর্চার কারণে অনেকে তাকে শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। তিনি কলরবের সঙ্গেও কাজ করেছেন বলে জানান।


শিবিরের নীতির সমালোচনা করে আম্মার বলেন, শাখা পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি সংগঠনটির নীতি সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা পেয়েছেন। তার দাবি, শিবিরের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হলেও সেগুলোর কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।


সবশেষে আম্মার বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনোটির সঙ্গেই তিনি জড়িত নন। তার দাবি, যেসব কাজ তিনি করেননি, সেসবের অভিযোগের প্রমাণ দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।


তবে সালাহউদ্দিন আম্মারের এসব বক্তব্যের বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।