ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তিতে চ্যাটজিপিটির সহায়তা নেন ইসরায়েলি যুবক
ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক ইসরায়েলি যুবক গোপন মিশন পরিচালনার সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিতেন। এমনকি বিভিন্ন কাজে তিনি চ্যাটজিপিটির পরামর্শও নিয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের হাইফা জেলা প্রসিকিউটরদের দাবি, ২৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ খালাফ ইরানের এক হ্যান্ডলারের নির্দেশে একাধিক গোপন মিশনে অংশ নেন। এসব কাজের বিনিময়ে তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ পেয়েছেন এবং নিজের কর্মস্থলের নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাকা আল-গারবিয়া শহরের বাসিন্দা খালাফ একটি আবাসিক বিদ্যালয়ে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগসহ গুরুতর গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অস্থায়ী কাজের সন্ধানকারীদের জন্য তৈরি একটি টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে খালাফের সঙ্গে ইরানি হ্যান্ডলারের যোগাযোগ শুরু হয়। সেখানে কুরিয়ার সংক্রান্ত একটি কাজের বিজ্ঞাপন দেখে তিনি যোগাযোগ করেন। ওই ব্যক্তি প্রথমে ‘থমাস’ এবং পরে ‘মার্টিন’ নামে নিজের পরিচয় দেন।
এরপর খালাফকে বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং কাজ সম্পন্ন করার পর ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হতো বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব কাজের কিছু সম্পন্ন করতে খালাফ এআইয়ের সহায়তা নেন এবং চ্যাটজিপিটির পরামর্শও গ্রহণ করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইরানি ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহ পর ৬ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত খালাফকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি হেফাজতে রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, পুলিশ ও শিন বেতের জিজ্ঞাসাবাদে খালাফ তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিভিন্ন অংশ স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে ইরানি হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ, বিভিন্ন মিশনে অংশ নেওয়া এবং অর্থ গ্রহণের বিষয়ও রয়েছে।
তদন্তে শিন বেতের সঙ্গে ইসরায়েল পুলিশের লাহাভ ৪৩৩ সাইবার ইউনিট ও আশের জেলা কেন্দ্রীয় ইউনিট কাজ করে। তদন্তকারীদের দাবি, খালাফের মোবাইল ফোন থেকে হ্যান্ডলারের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন, মিশন সম্পন্ন করার ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া যোগাযোগ, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের নথিও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ইরানি হ্যান্ডলারের নির্দেশে খালাফ একবার কিরিয়াত হাইমের একটি যন্ত্রপাতির দোকানের কাছে যান। সেখানে গাছের নিচে ডালপালা ও পাতার আড়ালে রাখা একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোন খুঁজে বের করেন। পরে ওই স্থানটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ কাজের বিনিময়ে তিনি ১ হাজার ৫০ শেকেল পেয়েছেন বলে প্রসিকিউশনের দাবি।
এর তিন দিন পর পারদেস হান্নার একটি মানি এক্সচেঞ্জ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের অর্থ উত্তোলন করেন খালাফ। পরে ৩০০ শেকেল একটি খামে রেখে শা’আর মেনাশে মনোরোগ হাসপাতালের কাছে একটি গ্যাস স্টেশনের শৌচাগারের লাইটের ভেতর লুকিয়ে রাখেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, নিজেদের যোগাযোগ গোপন রাখতে খালাফ ও তাঁর হ্যান্ডলার আলাদা কৌশল ব্যবহার করতেন। একটি অ্যাকাউন্টে মিশনসংক্রান্ত আলোচনা করা হতো। অন্যদিকে খালাফের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সাধারণ লেখা আদান-প্রদান করা হতো, যাতে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পাওয়া অর্থকে সম্পাদনা ও অনুবাদের পারিশ্রমিক হিসেবে দেখানো যায়।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে চলা একটি ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত কার্যক্রমের অংশ। খালাফকে হেফাজতের বাইরে রাখলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনসাধারণের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও আদালতে যুক্তি দিয়েছে প্রসিকিউশন।
তবে খালাফের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি। অভিযোগপত্রে থাকা তথ্যগুলো প্রসিকিউশন ও তদন্তকারীদের দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।