আলমডাঙ্গায় ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মোহাম্মদ চয়ন নামের এক ব্যবসায়ীকে একটি ঘরে আটকে রেখে মারধরের পর হত্যার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে চয়নের আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে দিয়ে তার মরদেহ একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ওসমানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত চয়নের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় হেলাল নামের এক ব্যক্তি মুঠোফোনে চয়নকে কল করে নিজ বাড়ি থেকে ওসমানপুর গ্রামে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে এলোপাতাড়ি মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
পরিবারের দাবি, নির্যাতনের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা চয়নের ছেলে মারুফকে ফোন করে জানায়, তার বাবার কাছে তারা টাকা পায়। ওই টাকা দ্রুত পরিশোধের জন্য তারা চাপ দিতে থাকে।
পরিবারের অভিযোগ, পরে চয়নের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তার মৃত্যু হয়।
চয়নের মৃত্যুর পর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তাদের দাবি, মৃত্যুর পর অভিযুক্তরা পরিবারের সদস্যদের ফোন করে চয়ন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানায়।
এরপর স্থানীয় একটি ভ্যানে করে চয়নের মরদেহ আলমডাঙ্গার হারদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, মরদেহটি জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে রেখে হেলাল ও তার সহযোগীরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, চয়নকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যার অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।