শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে তরুণদের বিক্ষোভ
শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাস্তায় নেমেছেন তরুণ-তরুণীরা। স্পেন, ফ্রান্স ও পর্তুগালসহ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ। আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোও সমর্থন জানাচ্ছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ফ্রান্সে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, শিক্ষকের সংকট, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কোনো কোনো বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষকস্বল্পতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী কয়েক মাস ধরে নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন সাধারণ মানুষও। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জ্বালানি সরবরাহে সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ পরিস্থিতির সঙ্গে মার্কিন বোমাবর্ষণের প্রভাবের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্রান্সের অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠন জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সংগঠনটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, পেনশন বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি তুলেছে।
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের এই আন্দোলন জনঅসন্তোষের বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরছে।
এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রতিবেশী স্পেনেও আবাসন ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে বাড়িভাড়া ও আবাসনের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি বিনিয়োগ তহবিল ৮৭ বছর বয়সী এক নারীর বাড়িভাড়া ২৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাও আবাসনসংকট ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষের চিত্র তুলে ধরেছে।