আরপিও সংস্কারে ৪৪ প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনের
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংস্কারে এবার ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪৪টি পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে রয়েছে একক প্রার্থীর আসনে ‘না ভোট’ চালু, জোট করলেও প্রার্থীকে নিজ দলের প্রতীকে ভোট করার নিয়ম, ইভিএম বাদ দেওয়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করা এবং অনিয়ম হলে পুরোনো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা পুনর্বহাল।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব এখন আইন মন্ত্রণালয়ের আইন লেজিসলেটিভ বিভাগে আছে। যাচাই-বাছাই শেষে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পেলে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যকর হবে এসব পরিবর্তন।
প্রথম সংসদ নির্বাচনের আগে ১৯৭২ সালে জারি হওয়া আরপিও এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ বার সংস্কার করা হয়েছে। তাতে মোট ২৪১টি ধারা-উপধারায় পরিবর্তন এসেছে। সংখ্যার বিচারে এবার হতে যাচ্ছে তৃতীয় সর্বোচ্চ সংশোধন। সর্বশেষ বড় সংস্কার হয়েছিল ২০০৮-২০০৯ সালে।
নির্বাচনি ব্যয়ের বিধানেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ইসি। বর্তমানে প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ২৫ লাখ টাকা। এবার সেটি বাতিল করে ভোটারপ্রতি ১০ টাকা ব্যয় নির্ধারণের প্রস্তাব তোলা হয়েছে। এতে সাড়ে ৭ লাখ ভোটারের আসনে একজন প্রার্থী ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারবেন।
এবারের প্রস্তাবনায় প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোট, অনলাইন নিবন্ধন ও আধুনিক ভোটিং পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়েছে ইভিএম।
ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেছেন, ২০০১ ও ২০০৮-২০০৯ সালে যেমন বড় পরিবর্তন এসেছিল, এবারও আরপিওতে যুগোপযোগী সংস্কার আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন প্রস্তাব কার্যকর হবে, তা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।