রবিবার , ৩০ আগস্ট ২০২৬
রবিবার , ৩০ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজনীতিবিদেশি বিনিয়োগের আড়ালে বন্দর ইজারা—অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনায় বাম গণতান্ত্রিক জোট

বিদেশি বিনিয়োগের আড়ালে বন্দর ইজারা—অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনায় বাম গণতান্ত্রিক জোট

favicon
অনলাইন সংস্করণ
বিদেশি বিনিয়োগের আড়ালে বন্দর ইজারা—অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনায় বাম গণতান্ত্রিক জোট

দেশকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির খেলাঘরে পরিণত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। তাদের দাবি, পূর্ববর্তী স্বৈরাচার সরকারের বন্দর ইজারা দেওয়ার উদ্যোগই এখন বাস্তবায়ন করছে অন্তর্বর্তী সরকার, এবং এসব পদক্ষেপ বিদেশি বিনিয়োগকেই উন্নয়ন হিসেবে দেখানোর প্রচেষ্টা।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ তুলে ধরে বাম জোট। তারা ডেনমার্কের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে লালদিয়ার চরে বন্দর নির্মাণ এবং সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানির কাছে পানগাঁও টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে আগামী ১৬ নভেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বাম জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাফি রতন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী।

বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণেরও সমালোচনা করা হয়েছে। বাম জোটের অভিযোগ, তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বিভাজন বাড়বে এবং দেশ আরও গভীর সংকটে পড়বে।

তারা আরও দাবি করে, প্রধান উপদেষ্টা ভাষণে ডেনমার্কভিত্তিক কোম্পানি এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তির কথা উল্লেখ করেন, যা জাতীয় নির্বাচনের আগে সন্দেহজনক তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেয়। বাম নেতৃবৃন্দ বলেন, লাভজনক বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগে ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকি রয়েছে।

তারা অভিযোগ করেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির মধ্যেও প্রধান উপদেষ্টা এক বাক্যও উচ্চারণ করেননি। মব সন্ত্রাস, নারীর প্রতি সহিংসতা, উগ্র মৌলবাদী তৎপরতা, খুনোখুনি, শ্রমিক ছাঁটাই—এসবের মধ্যেই সমাজ গভীর অস্থিরতায় পড়েছে, যা তারা ‘ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বাম জোটের দাবি, গত ১৫ মাসের সরকারি কর্মকাণ্ডেই সন্ত্রাসী উপাদানগুলো পুনরায় শক্তি অর্জনের সুযোগ পেয়েছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা এবং মামলা-বাণিজ্যের অভিযোগও তারা তুলেছে।

এ ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রস্তাবকে অপ্রয়োজনীয় ও জাতির ওপর বাড়তি বোঝা বলে আখ্যা দিয়ে দ্রুত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দাবি জানায় বাম জোট। তাদের মতে, সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা শুধু নির্বাচিত জাতীয় সংসদের, তাই বর্তমান সরকারের বন্দর ইজারা দেওয়া ও জাতীয় সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।