শুক্রবার , ০১ মে ২০২৬
শুক্রবার , ০১ মে ২০২৬
হোমআইন ও আদালতআদানির সালিশি প্রক্রিয়ায় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

আদানির সালিশি প্রক্রিয়ায় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

favicon
অনলাইন সংস্করণ
আদানির সালিশি প্রক্রিয়ায় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেড বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিদ্যুতের দাম ও পাওনা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সিঙ্গাপুরের সালিশি আদালতে যেতে চাইলেও আপাতত সেই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি উর্মি রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জানায়, আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির বৈধতা নিয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যাওয়ার সুযোগ নেই।

আদানির সালিশি উদ্যোগ ঠেকাতে আইনজীবী এম আব্দুল কাইয়ুম লিটন একটি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আদেশনামা জারি করে জানায়—রুল বিচারাধীন থাকাকালে সালিশি প্রক্রিয়ায় গেলে বিচারকাজ ব্যাহত হতে পারে।

এর আগে ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর একই আইনজীবী রিট করে দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আদানি পাওয়ারের সঙ্গে পিডিবির করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি অসম, প্রতারণামূলক, অযৌক্তিক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী। একই সঙ্গে চুক্তিটি সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সংশোধনে আদানি রাজি না হলে তা বাতিলের নির্দেশনা চান তিনি।

রিটের প্রাথমিক শুনানিতে হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বরের সেই চুক্তি কীভাবে হয়েছে, তা তদন্তে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বিদ্যুতের দাম ও বিল সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সিঙ্গাপুরে সালিশি আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল আদানি। নতুন রুলিং অনুযায়ী, এখন আর তা করতে পারবে না।

আদালতের আদেশটি ই-মেইলের পাশাপাশি ডিএইচএল-এর মাধ্যমে আদানি পাওয়ারের ঠিকানায় পাঠানো হবে।

২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে পিডিবি যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে, তার আওতায় ঝাড়খণ্ডে নির্মিত ১,৬০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ২৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ কেনার কথা রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের।